টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যাওয়ার লক্ষ্যে শুনিয়ে দেশ ছেড়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বাহিনীর এমন প্রত্যাশা অসম্ভব বলে মনে হয়নি ভক্ত-সমর্থকদের। কারণ বিশ্বকাপের ফ্লাইটে উড়াল দেওয়ার আগে শেষ তিন টি-টোয়েন্টি সিরিজেই জয়ের মুখ দেখেছিল টাইগাররা। প্রথম জিম্বাবুয়েকে তাদের মাটিতেই হারানোর পর দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল সাকিব-মাহমুদউল্লাহরা। টানা তিন টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশ দলকে ঘিরে ভক্তদের প্রত্যাশার পারদও ছিলো তাই তুঙ্গে।

কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে যেনো অন্য এক বাংলাদেশ দলকে আবিষ্কার করলো ক্রিকেটবিশ্ব। বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচেই তুলনামূলক দূর্বল প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর ওমান ও পাপুয়া নিউগিনিকে হারিয়ে বিশ্বকাপের মূলপর্ব নিশ্চিত করলেও সুপার টুয়েলভে ভরাডুবি দেখেছে সাকিব-মাহমুদউল্লাহরা। সুপার টুয়েলভের ৫ ম্যাচের একটিতেও জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লড়াই করতে পারলেও বাকি তিনটি ম্যাচে কোনো ধরণের প্রতিদ্বন্দীতাই দেখাতে পারেনি টাইগাররা। তাই এবারের বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবেও সুপার টুয়েলভ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল বাংলাদেশকে।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হতশ্রী পারফরম্যান্সে হতাশ ভক্ত-সমর্থকরা। মুশফিক-রিয়াদদের নিয়ে আক্ষেপ শোনা গেছে সাবেক তারকা ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকদের কণ্ঠেও। ভারতীয় সাবেক তারকা ব্যাটসম্যান ভিভিএস লক্ষন এক টুইটবার্তায় লিখেছেন, বাংলাদেশের দুর্বল বিশ্বকাপ শেষ হলো আরেকটি বড় পরাজয়ের মধ্য দিয়ে। তারা এর চেয়ে অনেক ভালো দল। ড্রয়িং বোর্ডে ফিরে যাওয়ার এবং পুনরায় দলবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে বাংলাদেশের।

ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান ধারাভাষ্যকার আঞ্জুম চোপড়া এক টুইটবার্তায় লিখেছেন, খুবই সাদামাটা একটি টুর্নামেন্ট কাটলো বাংলাদেশের। তাদের পক্ষে কিছুই যায়নি। কয়েকটি ঘনিষ্ঠ ম্যাচে তারা হেরেছে বাকিগুলোতে রীতিমতো ছিটকে পড়েছে।

ভারতীয় আরেক জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে লিখেছেন, খুবই হতাশাজনক। বাংলাদেশ তাদের টুর্নামেন্ট শেষ করেছে দুইটি জয় ও ৬টি হারের মধ্যে দিয়ে। তাদের এখন ফিরে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। উদ্বেগজনক হচ্ছে, প্রতিভাবান খেলোয়াররা সেই লেভেলে জেগে উঠতে পারছে না যেখানে তাদের দরকার ছিল।

বাংলাদেশের বিপক্ষে বিরাট এক জয়ের পর কিংবদন্তী স্পিনার শেন ওয়ার্ন লিখেছেন, অভিনন্দন জানাই অজি ক্রিকেটারদেরকে বাংলাদেশকে রীতিমতো উড়িয়ে দেওয়ায়। ভালো লেগেছে ছেলেদের মনোভাব দেখে। কোনো ভয় ছিল সা এবং সকলে হিংস্র মনোভাবে ছিল। আমি জানি বাংলাদেশ এই বিশ্বকাপ থেকে আগেই বাদ পড়েছে কিন্তু তাদের শরীরিভাষা যেন সেখানেই ছিল।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.