এ যেন ব্যর্থতার ষোলোকলা পূর্ণ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার টুয়েলভে নিজেদের শেষ ম্যাচে সবচেয়ে বড় লজ্জার হার উপহার দিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বাহিনী। বাছাই পর্বের বাধা পার করা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বাধীন দলটি চূড়ান্ত পর্বে হেরে যায় শ্রীলংকা, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকার ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এরকম এক বিশ্বকাপ কাটানোর পরে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর চোখে মুখেও দেখা মিলল হতাশার ছাপ। রিয়াদ মনে করেন, অনেকগুলো বিষয়ের উপর এখন নতুন করে নজর দিতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৮ উইকেটে হারের পর তোপের মুখেই পড়লেন মাহমুদউল্লাহ। অধিনায়ক হিসেবে ব্যর্থ রিয়াদ কী তাহলে নিজের অধিনায়ক ক্যারিরারের ইতি টেনে দেবেন? এমন প্রশ্নে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বেশ কৌশলী উত্তর দিয়েছেন। অধিনায়কত্ব ছাড়ার ইস্যুতে মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘এটা আসলে আমার হাতে নেই। এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে আসবে। আমার দিক থেকে আমি সব সময়েই চেষ্টা করেছি দলকে আগলে রাখতে, ভালো পারফরম্যান্স আদায় করতে। সম্ভবত আমার নেতৃত্বে কোনো ঘাটতি ছিল, এ জন্য হয়তোবা পারফরম্যান্স আদায় করতে পারিনি। নেতৃত্ব ছাড়া নিয়ে প্রশ্নের উত্তর আমি ক্রিকেট বোর্ডের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। এখানে আমার মন্তব্য করার কিছু নেই।’

এর আগে দীর্ঘ ১৬ মাস পর গত জুলাইতে টেস্ট দলে জায়গা পেয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ক্যারিয়ার সেরা ১৫০ রানের ইনিংস খেলে হুট করেই জানিয়ে দেন টেস্ট থেকে অবসরের কথা। যদিও সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি এ নিয়ে। চলতি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর কথা উঠেছে তার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে বিদায় ইস্যু নিয়েও। আসরের সাতটি ম্যাচে ব্যাট হাতে ১৬৯ রান করলেও বল হাতে ছিলেন একেবারেই শূন্য। অবসর ইস্যুতে মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে আমি এমন কোনো চিন্তা করছি না।’

এদিন অজিদের বিপক্ষে লজ্জাজনক হারের জন্য ব্যাটসম্যানদেরই দায় দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। মাহমুদউল্লাহ বলেন, এভাবে হারার জন্য কোনো ধরণের অজুহাতই দিতে চাই না। অন্যতম সেরা একটি পিচে খেলেছি আমরা কিন্তু আমাদের ব্যাটিং খুবই খারাপ ছিল। সত্যি বলতে, এরকম পারফরম্যান্সের পর কিছুই বলার থাকে না। অনেকগুলো বিষয়ের উপর এখন নতুন করে নজর দিতে হবে। বিশেষ করে ব্যাটিং। আমাদের ব্যাটিংয়ের সমস্যাগুলোও খুঁজে বের করতে হবে। বিশ্বকাপে খারাপ করার জন্য কন্ডিশনের অজুহাত দিতে চান না রিয়াদ। তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপ শুরুর আগে আমরা দেশের মাটিতে কয়েকটা সিরিজ জিতেছি। বিশেষ করে আমাদের কন্ডিশনের সম্পূর্ণ ব্যবহার করে। একজন প্রফেশনাল ক্রিকেটার হিসেবে সকল কন্ডিশনেই মানিয়ে নিতে হয়। এখানকার উইকেট ও কন্ডিশন আমাদের অনূকুলেই ছিল। বিশ্বকাপে সমর্থকদের হতাশ করলেও তাদের সমর্থন ভবিষ্যতেও আশা করছেন রিয়াদ।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.